সপ্তম শ্রেণি শ্রাবস্তী গাইড ও নোট (পাঠ ৪)

Class 7 Guide & Notes
524

শ্রাবস্তী প্রাচীন কোশল রাজ্যের রাজধানী ছিল। বুদ্ধের সময়কালে কোশল রাজ্যের রাজা ছিলেন প্রসেনজিৎ। তিনি বুদ্ধের পরম ভক্ত ছিলেন। বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসারে তাঁর অনেক অবদান রয়েছে। তিনি রাজাকারাম বিহার নির্মাণ করে বুদ্ধকে দান করেছিলেন। রাজা প্রসেনজিৎ বিহারটি রানি মল্লিকাদেবীর অনুরোধে নির্মাণ করেছিলেন। এটি 'মল্লিকারাম' নামেও পরিচিত ছিল। শ্রাবস্তীর বর্তমান নাম সাহেত-মাহেত। এটি বর্তমানে উত্তর ভারতের গোণ্ডা জেলায় অবস্থিত।

প্রাচীনকালে শ্রাবস্তী উত্তর ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ জনপদ এবং ব্যবসা বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল। এখানে অনেক শ্রেষ্ঠী (ধনী ব্যক্তি) বাস করতেন। শ্রেষ্ঠী সুদত্ত বুদ্ধের সময়কালে শ্রাবস্তীর শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন। তিনি বুদ্ধকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতেন। বুদ্ধের বসবাসের জন্য তিনি শ্রাবস্তীতে বিখ্যাত জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। জেতবন বিহার নির্মাণের জন্য জায়গাটি মনোনীত করেছিলেন বুদ্ধের অগ্রশ্রাবক সারিপুত্র।
এটি ছিল জেত রাজকুমারের উদ্যান। এটি বিক্রয় করতে রাজি না হলে বুদ্ধভক্ত শ্রেষ্ঠী সুদত্ত জমির আয়তনের সমপরিমাণ স্বর্ণমুদ্রা ছড়িয়ে দিয়ে স্থানটি ক্রয় করেন এবং সেখানে জেতবন বিহার নির্মাণ করেন। এ বিহারে ভিক্ষুদের বসবাসের জন্য শয়ন কক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ, রান্নাঘর, স্নানঘর, শৌচাগার, পুকুর, কূপ ও অন্যান্য ব্যবস্থাদি ছিল। জেত রাজকুমার বিহারের তোরণ নির্মাণ করে দেন। পরবর্তীকালে তোরণের পাশে সম্রাট অশোক উঁচু স্তম্ভ নির্মাণ করেন। শ্রেষ্ঠী সুদত্ত ছিলেন দানবীর। সমগ্র ভারতবর্ষে তাঁর দানকার্যের সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি অনাথের পিন্ড দাতা ছিলেন বলে 'অনাথপিণ্ডিক' নামে খ্যাত হন। জেতবন বিহারের চারদিকে প্রচুর গাছপালা ছিল। পরিবেশ ছিল ধ্যান সাধনার অনুকূল। তাই বুদ্ধ এই বিহার খুব পছন্দ করতেন। তিনি এখানে উনিশ বর্ষাবাস পালন করেন। দস্যু অঙ্গুলিমালকে বুদ্ধ জেতবন বিহারে দীক্ষা দান করেছিলেন।

কালের গর্ভে জেতবন বিহারটি হারিয়ে যায়। পঞ্চম শতকের প্রথম দিকে পরিব্রাজক ফা-হিয়েন যখন শ্রাবস্তীতে এসেছিলেন তখন তিনি ধ্বংসপ্রায় বিহারটি দেখতে পান। সপ্তম শতকের দিকে পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শ্রাবস্তীতে এসেছিলেন। তখন তিনি বিহারের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভিত্তিভূমি ছাড়া কিছুই দেখেননি। ভারত সরকার ১৯৯১ সালে এ স্থানে খননকার্য পরিচালনা করে অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন উদ্ধার করেন।

শ্রাবস্তী

মিগার মাতা বিশাখা শ্রাবস্তীতে 'পূর্বারাম বিহার' নির্মাণ করে বুদ্ধকে দান করেছিলেন। এ বিহারটি ছিল দ্বিতল বিশিষ্ট। বুদ্ধ শ্রাবস্তীতে বসবাস করে অনেক ধর্মোপদেশ দান করেছেন। তিনি এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেশনা করেছেন যা ত্রিপিটকে পাওয়া যায়। শ্রাবস্তীতে বুদ্ধের সবচেয়ে বেশি অনুসারী ছিলেন। শ্রাবস্তীতে বুদ্ধের জীবন ও কর্মের অনেক স্মৃতি বিজড়িত আছে। তাই এ স্থান বৌদ্ধদের কাছে অতি পবিত্র তীর্থ ও দর্শনীয় স্থান।

অনুশীলনমূলক কাজ
শ্রাবস্তীতে বিখ্যাত বিহারগুলোর নাম উল্লেখসহ সেগুলো কে কে নির্মাণ করেছিলেন তা বর্ণনা কর।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...